Menu
Menu

‘বিজ্ঞাপনী প্রচার মানুষকে বোকা বানানোর কৌশল’ pdf

ভালো লাগলে শেয়ার করো

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবন্ধসূচিতে চার ধরণের প্রবন্ধ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো বিতর্কমূলক রচনা। একটি সমাজ-সংশ্লিষ্ট বিষয় এক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়। দেওয়া থাকে সেই বিষয়ের পক্ষে কিছু যুক্তি। পরিক্ষার্থীকে সেই যুক্তি খণ্ডন করে করে সেই বক্তব্যের বিরুদ্ধ মত প্রতিষ্ঠা করাই হলো মূল কাজ।

পক্ষে


নিজের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নির্বাচনের সুযোগ দেয় বিজ্ঞাপন। কিন্তু এখানেই থেকে যায় প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা। বিজ্ঞাপনের জৌলুসে বিভ্রান্ত হয়ে যখন নিম্নমানের দ্রব্য ক্রয় করা হয়; তারপর আক্ষেপ ছাড়া কিছুই করার থাকে না, মানুষ নিজের সামর্থ্যের কথা ভুলে গিয়ে বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পণ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে। কখনো-কখনো রুচিহীন বিজ্ঞাপন বিশেষভাবে অল্পবয়সিদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। মুনাফালাভের জন্য পণ্য প্রস্তুতকারক বা বিক্রেতা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল তথ্য পরিবেশন করেন বিজ্ঞাপনে। পরিণত শিক্ষিত মানুষও এর ফলে অনেক সময় বিভ্রান্ত বোধ করেন। তাই বিজ্ঞাপনী প্রচার নয় পণ্যদ্রব্যের গুণগত মান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা আবশ্যক। www.banglaguide.in

বিপক্ষে


বিজ্ঞাপনকে বলা হয় বিশেষরূপে জ্ঞাপন। অর্থাৎ ‘নিজের ঢাক নিজেই পেটাও’। এই জ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় ক্রেতার কাছে পণ্যের পরিচিতি ও বিপণনের স্বার্থে। বলাবাহুল্য বর্তমান মানবজীবনে এই বিজ্ঞাপনের গুরুত্ব অসীম। আধুনিক কর্পোরেট দুনিয়া ব্যক্তিকে প্রোডাক্ট মনে করে। নিজেকে বিজ্ঞাপিত না করতে পারলে এ যুগে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সহজ নয়। নিজের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব কর্মক্ষমতা এবং উৎপাদিত পণ্যের বিজ্ঞাপন না করলে বিপণন কঠিন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন জগৎ নিজেই এখন একটি বড়ো ব্যাবসা। এই জগতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কত মানুষের রুজি-রোজগার। মানুষকে বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ করা ব্যাবসার একটি বিশেষ কৌশল। কেবল ব্যাবসা বা চাকরির ক্ষেত্রে নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতির জগৎ থেকে রাজনীতির জগৎ পর্যন্ত সর্বত্র এখন বিজ্ঞাপনের চমক। এমনকি সমাজসেবামূলক জনসচেতনতার কাজেও বিজ্ঞাপন সহায়কের ভূমিকা পালন করে। www.banglaguide.in

আরো পড়ুন-  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি বর্জন করা উচিৎ - বিতর্ক রচনা PDF

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে বিজ্ঞাপনের জৌলুস। শুধু শহরের শিক্ষিত সমাজে নয়, প্রত্যন্ত গ্রামেও কোনো না-কোনো মাধ্যম দ্বারা বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞাপন করা হচ্ছে। টিভি বা খবরের কাগজের বিজ্ঞাপনের কথাই শুধু মনে রাখলে চলবে না। যেখানে যে উপায়ে সম্ভব সেখানে সেভাবে স্বপক্ষে প্রচার চালানোই বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে পরোক্ষে ভাষা-শিল্প-সংস্কৃতিরও বিকাশ ঘটে। পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষ অবহিত হতে পারে।

        বর্তমান বিজ্ঞাপনকে সব বয়সের কাছে মনোগ্রাহী করে তোলার জন্য এর ভাষায় মার্জিত ভাব এবং মনোরম বর্ণ নির্বাচন এবং তার শিল্পগুণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বলাবাহুল্য, এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে মডেলদের চমকপ্রদ প্রদর্শন দেখানো হচ্ছে তাও সকল বয়সের কাছে অত্যন্ত মার্জিত রুচিসম্পন্ন হয়ে উঠছে। এমনকি প্রতিযোগিতার বাজারে বিভিন্ন সংস্থার একই বস্তুর বিজ্ঞাপন দেখে ক্রেতারা তার সঠিক বিচার করতে পারে। এর ফলস্বরূপ মানুষের প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কোনো বিজ্ঞাপন সংস্থা যদি তাদের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণা করে, তবে তার দায় কেবলমাত্র ওই নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন সংস্থার উপর বর্তাবে। এর জন্য সকল বিজ্ঞাপন সংস্থা ও তাদের বিজ্ঞাপনের বিষয়গুলিকে অবহেলা করা উচিত নয়। সেক্ষেত্রে আধুনিক জীবনে বিজ্ঞাপনের প্রভাব অনেকমাত্রায় কমে যাবে এবং তার ফলস্বরূপ আধুনিক জনজীবন অনেকটাই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। www.banglaguide.in


উচ্চমাধ্যমিক ২০১৭


বিতর্কমূলক বিষয়ের অন্যান্য রচনা


ভালো লাগলে শেয়ার করো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!