Menu
Menu

সুপ্রভাব নয়, বর্তমান গণমাধ্যম কুপ্রভাবই বিস্তার করছে pdf

ভালো লাগলে শেয়ার করো

মতের পক্ষে


সংবাদপত্র, বেতার, দূরদর্শন, ইন্টারনেট ইত্যাদির কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন, সংবাদ বা তথ্য পরিবেশনের প্রভাব মারাত্মক।

মতের বিপক্ষে


বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমকে একতরফা বিচারের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করে, তার কৃতিত্বকে খর্ব করার নিরন্তর যে প্রয়াস চলছে তা এখনই বন্ধ করা উচিৎ। গণমাধ্যমের উপযোগিতা ও এর সুপ্রভাব কতটা সমাজে কার্যকরী ও সমাজের উন্নতির সহায়ক তা নানা যুক্তির মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করা হলো।

        গণমাধ্যম হল গণশিক্ষার মাধ্যম। অর্থাৎ যার সাহায্যে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে থেকে আমজনতা শিক্ষার সুযোগ পায়। ইংরেজিতে একে বলে mass-media। শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত বলেই জনগণের সেই দাবি পূরণের একমাত্র সার্বিক শিক্ষামাধ্যম হল গণমাধ্যম।

        সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে তাল রেখে গণশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে সংবাদপত্র রেডিয়ো-টেলিভিশন সিনেমা প্রভৃতি। বিগত বিশ বছরের মধ্যে মিডিয়ার জগতে ব্যাপক বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। ই-মেল, ফেসবুক, টুইটার প্রভৃতির চোখধাঁধানো এবং ভোগবাদী ভাবনার ইন্ধনে বিশ্ব চলে এসেছে আমাদের গৃহকোণে। শিক্ষার জগতে ঘটেছে প্রকৃত অর্থে বিশ্বায়ন। সে সুযোগ মুষ্টিমেয় কিছু নুষের কাছে উন্মুক্ত হলেও গণমাধ্যমের এই সাফল্য যুগান্তকারী। www.banglaguide.in

        জন্মলগ্ন থেকেই শুরু হয় শিশুর শিক্ষাগ্রহণের কাজ। প্রথমে সে শেষে মায়ের কোলে। পরিবেশ, সামাজিক রীতিনীতি হয়ে ওঠে তার স্বাভাবিক সহায়ক শক্তি। এরপর শুরু হয় হাতেকলমে শিক্ষা ও প্রথাগত শিক্ষার পরিমণ্ডল। যদিও এই শেষোক্ত শিক্ষার সুযোগ নির্ভর করে আমাদের মতো অনগ্রসর দেশের আর্থসামাজিক অবস্থান ও শিক্ষা গ্রহণের প্রকৃষ্ট পন্থা।

        প্রচলিত গণমাধ্যমগুলির মধ্যে আমজনতার দরবারে সহজলভ্য সংবাদপত্র, চলচ্চিত্র, বেতার ও দুরদর্শন। এই গণমাধ্যমগুলির মাধ্যমে বিনোদন ও শিক্ষা দুই-ই চলে একসঙ্গে। এখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনোটির মাধ্যমে কৃষক শেখে কৃষিকথা, মৎস্যজীবী মাছ চাষের বৈজ্ঞানিক কৃৎকৌশল কিংবা সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার বিপদ সংকেত। আর ছাত্র-যুব শেখে শিক্ষা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা কথা, সাধারণ মানুষ পায় বিনোদনের উপকরণ। www.banglaguide.in

আরো পড়ুন-  সরকারি কাজকর্মে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয় - বিতর্ক রচনা PDF

        আবার সাধারণ মানুষের কাছে দূরদর্শনের প্রভাব সর্বগ্রাসী। খেলাধুলো, জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনীতি, শিল্প-সংস্কৃতি নানা স্বাদের, নানা রুচির অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয় দূরদর্শনে। প্রকৃতপক্ষে টিভির কল্যাণে বিশ্ব এসে মিশেছে আমাদের ঘরে ঘরে। বিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে গণমাধ্যম হিসেবে ইনটারনেট, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির সম্মিলিত প্রভাবে সময়ের দূরত্ব যেমন কমেছে, বিশ্বায়নও তেমনি ত্বরান্বিত হয়েছে। গণশিক্ষায় বিপ্লব এনে দিয়েছে অনেকটাই। ঘুচে গেছে প্রজন্মের ব্যবধান।

গণমাধ্যম একদিকে যেমন উন্মুক্ত করেছে গণশিক্ষার বৃহত্তর জগৎ, অন্যদিকে তেমনি সামাজিক মূল্যবোধেরও অবসান ঘটিয়ে চলেছে। নানা রুচিবিগর্হিত কর্মসূচির প্রভাবে শিশুমনও বিপথগামী হয়ে পড়েছে। তাদের স্বাভাবিক সুকুমার বৃত্তি বিধ্বস্ত হতে চলেছে। সামাজিক বন্ধনও শিথিল হয়ে পড়ছে।

তবু গণমাধ্যম নাগরিক জীবনে অপরিহার্য। বিষ আছে, সমাজসচেতন মানুষ তথা প্রশাসনকেও বিষহরির ভূমিকা নিতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে চালিত করে আমজনতার শিক্ষার আগলকে উন্মুক্ত করতে হবে। www.banglaguide.in


উচ্চমাধ্যমিক ২০১৯


অন্যান্য বিতর্কমূলক রচনা


ভালো লাগলে শেয়ার করো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!